The Kitáb-i-Aqdas - Questions And Answers

1. প্রশ্ন: সর্বমহান উৎসব সম্বন্ধে।
উত্তর: বায়ান গ্রন্থানুযায়ী সর্বমহান উৎসব বৎসরের দ্বিতীয় মাসের ত্রয়োদশ দিবসের অপরাহ্ণের শেষের দিকে শুরু হয়। এই উৎসবের প্রথম, নবম ও দ্বাদশ দিবসে, কাজ নিষিদ্ধ।

2. প্রশ্ন: যমজ জন্মদিনের উৎসব সম্বন্ধে।
উত্তর: আবহা সৌন্দর্যের জন্ম মুহররম+ মাসের দ্বিতীয় দিন ভোরবেলায় হইয়াছিল, যাহার প্রথম দিনটি তাঁহার অগ্রদূতের জন্ম দ্বারা চিহ্নিত। এই দুইটি দিন ঈশ্বরের দৃষ্টিতে এক দিন রূপে গণ্য হয়।

3. প্রশ্ন: বিবাহের শ্লোকসমূহ সম্বন্ধে। 
উত্তর: পুরুষদের জন্যঃ “সত্য সত্যই, আমরা সকলেই অবশ্যই ঈশ্বরের ইচ্ছা মানিয়া চলিব”। নারীদের জন্যঃ “সত্য সত্যই, আমরা সকলেই অবশ্যই ঈশ্বরের ইচ্ছা মানিয়া চলিব”।

4. প্রশ্ন: কোন পুরুষ তাহার প্রত্যাবর্তনের একটি সময়, অন্য কথায়, তাহার অনুপস্থিতির প্রত্যাশিত সময়কাল নির্দিষ্ট না করিয়া সফরে যাইলে এবং অতঃপর তাহার সম্বন্ধে কোন সংবাদ পাওয়া না যাইলে, এবং তাহার আর কোন খোঁজ পাওয়া না যাইলে, তাহার স্ত্রী কোন পন্থা অবলম্বন করিবে?
উত্তর: এ বিষয়ে কিতাব-ই-আক্বদাস-এর শর্ত সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও তাহার প্রত্যাবর্তনের একটি সময় স্থির করিতে সে উপেক্ষা করিয়া থাকিলে, তাহার স্ত্রীকে পূর্ণ এক বৎসর অপেক্ষা করিতে হইবে, তারপর সে - হয় সে প্রশংসনীয় পথ অবলম্বন করিতে অথবা নিজের জন্য অন্য স্বামী পছন্দ করিতে মুক্ত হইবে। তথাপি, যদি পুরুষটি এই শর্ত সম্বন্ধে জ্ঞাত না থাকে, তাহা হইলে তাহার স্ত্রীর উচিত হইবে ধৈর্যের সহিত এইরূপ সময় পর্যন্ত প্রতীক্ষা করা যতক্ষণ না ঈশ্বর তাহার স্বামীর নিয়তিকে তাহার কাছে প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করিবেন। এই প্রসঙ্গে প্রশংসনীয় পথ বলিতে ধৈর্যের অনুশীলন বুঝায়।

5. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধে: “যখন আমরা এখনও জন্ম গ্রহণ করে নাই এমন শিশুদের চিৎকার শ্রবণ করিলাম, তখন আমরা তাহাদের অংশ দ্বিগুণ করিলাম এবং অন্যদের অংশ হ্রাস করিলাম।”
উত্তর: ঈশ্বরের গ্রন্থানুসারে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ২,৫২০ অংশে বিভক্ত করা হইয়াছে, যে সংখ্যা নয় পর্যন্ত সমস্ত পূর্ণসংখ্যার সর্বনিম্ন সাধারণ গুণিতক, এবং অতঃপর এই অংশগুলিকে সাত ভাগে বিভক্ত করা হইয়াছে, গ্রন্থের উল্লেখ অনুযায়ী উহাদের প্রত্যেকটিকে নির্দিষ্ট শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ, শিশুদেরকে ৬০ অংশের নয়টি অংশসমষ্টিতে বণ্টন করা হইয়াছে যাহাতে সর্বমোট ৫৪০ ভাগ অন্তর্ভুক্ত। “আমরা তাহাদের অংশ দ্বিগুণ করিলাম” বিবৃতিটির অর্থ হইতেছে এইরূপ যে, শিশুরা ৬০ অংশের আরও নয়টি অংশ একক লাভ করিবে- ইহাতে তাহারা সর্বসাকুল্যে ১৮টি অংশসমষ্টির অধিকারী হইবে। যে অতিরিক্ত অংশ তাহারা লাভ করিয়াছে তাহা অন্য শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের অংশগুলি হইতে বাদ যাইবে, এই জন্য, যদিও ইহা প্রকাশিত যে পতি বা পত্নী -“চারি শত আশি অংশবিশিষ্ট আট একক”-এর অধিকারী - যাহা ৬০ অংশের আট অংশসমষ্টির সমান, এখন, এই পুনর্বিন্যাসের ফলে, সর্বমোট ৯০ অংশের দেড় অংশসমষ্টি পতি বা পত্নীর অংশ হইতে বিয়োগ হইয়াছে এবং শিশুদের জন্য পুনর্বণ্টন করা হইয়াছে, এবং বিষয়টি অন্যদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। ফল এই দাঁড়াইতেছে যে, বিয়োগকৃত সর্বমোট পরিমাণ শিশুদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া অতিরিক্ত নয়টি অংশসমষ্টির সমান।

6. প্রশ্ন: ইহা কি অপরিহার্য যে ভাইকে তাহার উত্তরলব্ধি অংশের প্রাপ্তিযোগ্যতা অর্জন করিতে মৃত ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়ের বংশোদ্ভূত হইতে হইবে অথবা শুধু পিতা ও মাতার একজনের বংশোদ্ভূত হইলেই কি যথেষ্ট হইবে?
উত্তর: যদি মৃত ব্যক্তির ভাই তাহার পিতার বংশোদ্ভূত হয় তাহা হইলে পবিত্র গ্রন্থে লিপিবদ্ধ নির্দিষ্ট পরিমাণে উত্তরলব্ধির অংশ লাভ করিবে; কিন্তু সে যদি মাতার বংশোদ্ভূত হয়, সে উত্তরলব্ধির দুই-তৃতীয়াংশ লাভ করিবে, অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে ফেরত যাইবে। এই নিয়ম ভগ্নির প্রতিও প্রযোজ্য।

7. প্রশ্ন: উত্তরাধিকার বিষয়ক অনুবিধিসমূহে ইহা নির্দিষ্ট করা হইয়াছে যে, মৃত ব্যক্তি যদি কোন সন্তান রাখিয়া না যায়, তাহাদের অংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তনের কথা রহিয়াছে। যদি উক্ত অধিকারীদের অন্যান্য শ্রেণী, যথা পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ভগ্নি ও শিক্ষক অনুরূপভাবে বিদ্যমান না থাকে, তাহা হইলেও কি তাহাদের উত্তরলব্ধির অংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করে, অথবা তাহাদের অংশ কি অন্য কোন প্রকারে বণ্টিত হইয়া থাকে?
উত্তর: পবিত্র শ্লোকই ইহার জন্য যথেষ্ট। তিনি বলিয়াছেন. তাঁহার কথা মহিমান্বিত হউক: “মৃত ব্যক্তি সন্তান না রাখিয়া গেলে, তাহাদের অংশ বিচারালয়ের নিকট ফেরত যাইবে”, ইত্যাদি এবং “মৃত ব্যক্তি যদি সন্তান রাখিয়া যায় কিন্তু অন্যান্য শ্রেণীর উত্তরাধিকারীগণের কেহ না থাকে যাহাদের কথা গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হইয়াছে, তাহারা উত্তরাধিকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ লাভ করিবে এবং অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে ফেরত যাইবে” অন্য কথায়, যে ক্ষেত্রে কোন সন্তান-সন্ততি বিদ্যমান নাই, সেই ক্ষেত্রে তাহাদের জন্য ধার্যকৃত উত্তরলব্ধির অংশ বিচারালয়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে; এবং যেখানে সন্তান বিদ্যমান কিন্তু উত্তরাধিকারীর অন্য শ্রেণী অবিদ্যমান, সেই ক্ষেত্রে এই উত্তরলব্ধির দুই-তৃতীয়াংশ সন্তানদের হস্তগত হইবে, অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে। এই বিধানের সাধারণ ও সুনির্দিষ্ট উভয় প্রয়োগ রহিয়াছে, যাহা ব্যাখ্যা করে যে, যখনই উত্তরাধিকারীদের এই শেষোক্ত শ্রেণীর কোন বর্গ অবিদ্যমান থাকে, তখন তাহাদের উত্তরলব্ধির দুই-তৃতীয়াংশ সন্তানদের হস্তগত হয় এবং অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করে।

8. প্রশ্ন: মূল টাকার পরিমাণ সম্বন্ধে যাহার উপর হুকুকুল্লাহ্ প্রদানযোগ্য।
উত্তর: যে মূল টাকার পরিমাণের উপর হুকুকুল্লাহ্ দেওয়া হয় তাহা হইতেছে উনিশ মিশ্কাল স্বর্ণ। অন্য কথায়, যখন সমপরিমাণ মূল্যের টাকা অর্জিত হয়, তখন হুকুকুল্লাহ্ প্রদানযোগ্য হয়। অনুরূপভাবে, হুকুক্ তখন প্রদানযোগ্য যখন অন্যান্য প্রকারের সম্পত্তির মূল্য, উহাদের সংখ্যা নহে, নির্ধারিত পরিমাণে পৌঁছায়। হুকুকুল্লাহ্ একবারের বেশি প্রদানযোগ্য নহে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, এক ব্যক্তি, যে এক হাজার মিশ্কাল স্বর্ণ অর্জন করিয়াছে, এবং হুকুক্ প্রদান করিয়াছে, সে পুনরায় এই পরিমাণের উপর অর্থ প্রদানে বাধ্য নহে, কিন্তু ব্যবসায়, বাণিজ্য এবং অনুরূপ কোন কিছুর মাধ্যমে অর্জিত অতিরিক্ত অর্থের উপর হুকুক্ দেওয়া হয়।
যখন এই বৃদ্ধি, অর্থাৎ অর্জিত মুনাফা নির্ধারিত পরিমাণে পৌঁছাইবে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্য ঈশ্বর যাহা আদেশ করিয়াছেন তাহা পালন করতে হইবে। 
শুধুমাত্র যখন মূলধনের মালিকানা বদল হয় তখন আর একবার হুকুকুল্লাহ্ দেয় বাধ্যতামূলক হয়, ঠিক প্রথমবারের মত। আদিবিন্দু বিধান দিয়াছিলেন যে, যাহা কিছু কোন লোকের অধিকারে থাকিবে তাহার মূল্যের উপর অবশ্যই হুকুকুল্লাহ্ পরিশোধ করিতে হইবে; এতদসত্ত্বেও, এই মহাশক্তিশালী ধর্মবিধানে, আমরা গৃহস্থালী আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জাকে - অর্থাৎ এইরূপ আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জা যাহা প্রয়োজন এবং স্বয়ং বসতবড়িটিকে অব্যাহতি প্রদান করিয়াছি।

9. প্রশ্ন: কোন্টি অগ্রগণ্যতা লাভ করিবে: হুকুকুল্লাহ্ মৃত ব্যক্তির ঋণ, অথবা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধিস্থকরণের ব্যয়? 
উত্তর: অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধিস্থকরণ অগ্রগণ্যতা লাভ করিবে, তারপর ঋণ পরিশোধ, তারপর হুকুকুল্লাহ্। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তাহার ঋণ শোধ করিবার জন্য অপর্যাপ্ত হইলে, তাহার সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ এই সব ঋণের মধ্যে আনুপাতিকভাবে বণ্টন করিয়া দিতে হইবে।

10. প্রশ্ন: কিতাব-ই-আক্বদাস-এ মস্তক মু-ন নিষিদ্ধ হইয়াছে কিন্তু সুরাই-ই-হজ্জ-এ আদেশ দেওয়া হইয়াছে।
উত্তর: সবাইকে কিতাব-ই-আক্বদাস-এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের আদেশ দেওয়া হইয়াছে; যাহা কিছু ইহাতে প্রকাশিত হইয়াছে তাহা তাঁহার ভৃত্যদের মধ্যে ঈশ্বরের আইন হইয়াছে। পবিত্র গৃহে তীর্থযাত্রীদের মস্তক মু-ন করিবার আদেশ তুলিয়া লওয়া হইয়াছে।

11. প্রশ্ন: যদি একটি দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ-পূর্ব ধৈর্য ধারণের এক বৎসর সময়কালে যৌন সংসর্গ ঘটে, এবং তারপর আবার তাহারা বিচ্ছিন্ন হয়, তাহা হইলে কি তাহাদের ধৈর্য ধারণের বৎসর পুনরায় শুরু করিতে হইবে? অথবা যৌন সংসর্গের পূর্ববর্তী দিনগুলি বৎসর গণনায় অন্তর্ভুক্ত হইবে? এবং ইহা কি অপরিহার্য যে বিবাহবিচ্ছেদ হইবার পর আরও একটি অপেক্ষার কাল পালন করিতে হইবে?
উত্তর: যদি তাহাদের ধৈর্য ধারণের বৎসরকালীন উক্ত দম্পতির মধ্যে ¯েœহ-ভালবাসা পুনরায় আরম্ভ হয় তাহা হইলে বিবাহবন্ধন বৈধ ও বহাল থাকিবে, এবং ঈশ্বরের যাহা আদেশ হইয়াছে তাহা অবশ্যই পালন করিতে হইবে; কিন্তু ধৈর্য ধারণের এক বৎসর একবার পূর্ণ হইবার পর এবং ঈশ্বর যাহা বিধান দিয়াছেন তাহা সংঘটিত হইলে, আরও একটি অপেক্ষার কালের প্রয়োজন নাই। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তাহাদের ধৈর্য ধারণের সময়কালীন যৌন সংসর্গ নিষিদ্ধ; এবং যে-কেহ এই কাজ করে তাহাকে অবশ্যই ঈশ্বরের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতে হইবে, এবং, শাস্তিস্বরূপ, ন্যায় বিচারালয়কে ১৯ মিশ্কাল স্বর্ণের একটি জরিমানা প্রদান করিতে হইবে।

12. প্রশ্ন: বিবাহের শ্লোকসমূহ পড়িবার ও পণ প্রদানের পর একটি দম্পতির মধ্যে বিরাগ-বিতৃষ্ণার উদ্ভব হইলে, ধৈর্যের বৎসর পালন ছাড়া-ই কি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিতে পারে?
উত্তর: বিবাহের শ্লোকসমূহ পড়িবার ও পণ প্রদানের পর বৈধভাবেই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিতে হইবে- তবে তাহা বিবাহ কার্য আইনতঃ সিদ্ধ হইবার পূর্বে। এইরূপ অবস্থায়, ধৈর্য ধারণের এক বৎসর পালন করিবার প্রয়োজন নাই, তবে প্রদত্ত পণ ফেরত নেওয়া অনুমোদনীয় নহে।

13. প্রশ্ন: বিবাহে উভয় পক্ষের পিতামাতার সম্মতি লাভ কি পূর্বশর্ত, অথবা একদিকের সম্মতি যথেষ্ট? এই আইন কি শুধুমাত্র কুমারী অথবা অন্যদের জন্যও প্রযোজ্য?
উত্তর: বিবাহে উভয় পক্ষের পিতা-মাতার সম্মতির উপর বিবাহ শর্তযুক্ত এবং এ বিষয়ে এই আইন কোন পার্থক্যের অবকাশ দেয় না, তাহা কনে একজন কুমারী হউক অথবা না-ই হউক।

14. প্রশ্ন: বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহ আবৃত্তিকালীন বিশ্বাসীদেরকে কিব্লাহ্র দিকে মুখ ফিরাইতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে; অন্যান্য প্রার্থনাকালীন তাহারা কোন্ দিকে ফিরিবে?
উত্তর: বাধ্যতামূলক প্রার্থনা আবৃত্তিকালীন কিব্লাহ্মুখী হওয়া একটি অপরিহার্য শর্ত, কিন্তু অন্যান্য প্রার্থনাকালীন কোন লোক কোরআনে যাহা করুণাময় প্রভু প্রকাশ করিয়াছেন, তাহা অনুসরণ করিতে পারে: “যে দিকেই তোমরা মুখ ফিরাইবে, সেই দিকেই রহিয়াছে ঈশ্বরের মুখমন্ডল”।

15. প্রশ্ন: “ঊষালগ্নে” মাশ্রিকুল আয্কারে ঈশ্বরের স্মরণ সম্পর্কে।
উত্তর: যদিও ঈশ্বরের গ্রন্থে “ঊষালগ্নে” শব্দগুলি ব্যবহৃত হইয়াছে, দিনের সবচেয়ে শুরুতে, প্রভাত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে, অথবা সূর্যোদয়ের দুই ঘণ্টা পর পর্যন্ত হইলেও ঈশ্বরের নিকট গ্রহণযোগ্য।

16. প্রশ্ন: মৃতদেহ এক ঘণ্টার ভ্রমণের অধিকতর দূরত্বে বহন করা যাইবে না বিষয়ক অনুবিধিটি কি স্থল ও সমুদ্র উভয় পরিবহনে প্রযোজ্য?
উত্তর: এই আদেশটি সমুদ্র পথের ও স্থল পথের দূরত্বের প্রতি প্রযোজ্য। এই এক ঘণ্টা বাষ্পীয় জাহাজ দ্বারা অথবা ট্রেন দ্বারা হউক; উদ্দেশ্য হইতেছে এক ঘণ্টার সময়, পরিবহনের মাধ্যম যাহাই হউক না-কেন। যদিও, যত শীঘ্রই সমাধিস্থকরণ সম্পন্ন হইবে, তত-ই অধিক উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হইবে।

17. প্রশ্ন: হারাইয়া যাওয়া সম্পত্তি খুঁজিয়া পাওয়া সম্বন্ধে কি কার্যপ্রণালী অনুসরণ করিতে হইবে?
উত্তর: যদি এইরূপ সম্পত্তি শহরে খুঁজিয়া পাওয়া যায়, ইহা খুঁজিয়া পাওয়ার বিষয়টি নগরঘোষক দ্বারা একবার ঘোষণা করিতে হইবে। তখন যদি সম্পত্তিটির মালিককে পাওয়া যায় তাহা হইলে উহা তাহার কাছে পৌঁছাইয়া দিতে হইবে। অন্যথায় সম্পত্তিটির আবিষ্কারককে এক বৎসর অপেক্ষা করিতে হইবে, এবং যদি এই সময়ের মধ্যে ইহার মালিক আত্মপ্রকাশ করে, তাহা হইলে আবিষ্কারক তাহার নিকট হইতে ঘোষকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করিবে এবং তাহার সম্পত্তি তাহাকে হস্তান্তর করিবে; মালিকের কোন খোঁজ ছাড়া-ই যদি এক বৎসর অতীত হয়, তাহা হইলে আবিষ্কারক স্বয়ং ঐ সম্পত্তি দখল করিতে পারিবে। যদি সম্পত্তির মূল্য ঘোষকের পারিশ্রমিক অপেক্ষা কম বা সমান হয়, আবিষ্কারক ইহার আবিষ্কারের সময় হইতে মাত্র একদিন অপেক্ষা করিবে, এবং এই দিনের অবসানে যদি ইহার মালিক আত্মপ্রকাশ না করে, তাহা হইলে সে নিজেই ইহা দখল করিতে পারে; এবং একটি জনশূন্য এলাকায় আবি®কৃত সম্পত্তির বেলায়, আবিষ্কারককে তিন দিনের জন্য অপেক্ষা করিতে হইবে; এই তিন দিনের অতিক্রান্তিতে যদি মালিকের খোঁজ অজ্ঞাত থাকে, তাহা হইলে সে তাহার আবিষ্কারটি অধিকার করিতে মুক্ত।

18. প্রশ্ন: অভিসিঞ্চন সম্বন্ধে: দৃষ্টান্তস্বরূপ, একজন লোক সবেমাত্র জল দ্বারা তাহার সমস্ত দেহ ধৌত করিয়াছে, তাহা হইলেও কি তাহাকে অভিসিঞ্চন করিতে হইবে?
উত্তর: যে কোন অবস্থাতেই হউক অভিসিঞ্চন সম্বন্ধীয় আদেশ অবশ্যপালনীয়।

19. প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি দেশান্তরে যাইয়া বসবাসের পরিকল্পনা করিলে এবং তাহার স্ত্রী বিরোধিতা করিলে, এবং এই মতভেদ বিবাহ বিচ্ছেদের সীমায় পৌঁছাইলে এবং এক বৎসর অতীত না হওয়া পর্যন্ত তাহার যাত্রার প্রস্তুতি বি¯তৃত করিলে, এই সময় কি ধৈর্যের এক বৎসর রূপে গণ্য হইবে? অথবা এই দম্পতির বিচ্ছেদের দিন ঐ বৎসরের আরম্ভ বিন্দুরূপে গণ্য হইবে?
উত্তর: “যে দিন স্বামী-স্ত্রী যুগল বিচ্ছিন্ন হয়, ঐ দিন হইতে গণনার দিন” শুরু হয়, এবং যদি স্বামীর প্রস্থানের এক বৎসর পূর্বে তাহারা বিচ্ছিন্ন হইয়া থাকে, এবং যদি ঐ দম্পতির মধ্যে পুনরায় ¯েœহ-ভালবাসার সুঘ্রাণের সূত্রপাত না হইয়া থাকে, তাহা হইলে, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হইতে পারে। অন্যথায় তাহার প্রস্থানের দিন হইতেই ঐ বৎসর গণনা করিতে হইবে, এবং কিতাব-ই-আক্বদাস-এ বর্ণিত শর্তাবলী মানিয়া চলিতে হইবে।

20. প্রশ্ন: ধর্মীয় কর্তব্য পালনে পূর্ণ বয়স প্রাপ্তি সম্বন্ধে।
উত্তর: নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পূর্ণ বয়স হইতেছে পনেরো।

21. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধে: “ভ্রমণকালীন তোমরা যদি কোন নিরাপদ স্থানে যাত্রা বিরতি কর এবং বিশ্রাম গ্রহণ কর, তাহা হইলে তোমরা প্রতিটি অপঠিত বাধ্যতামূলক প্রার্থনার পরিবর্তে মাত্র একটি প্রণতিপাত করিবে..।”
উত্তর: এই প্রণতিপাত ভ্রমণকালীন বাদপড়া বাধ্যতামূলক প্রার্থনার ক্ষতিপূরণ, এবং কারণ হইতেছে নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি। প্রার্থনার সময়ে, ভ্রমণকারী যদি নিজেকে একটি নিরাপদ স্থানে বিশ্রামরত পায়, তাহাকে এই প্রার্থনা সম্পাদন করিতে হইবে। ক্ষতিপূরণকারী ভূমিগত প্রণতিপাত বিষয়ক এই শর্ত গৃহ ও সফর উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

22. প্রশ্ন: ভ্রমণের সংজ্ঞা সম্বন্ধে:।* 
উত্তর: একটি ভ্রমণের সংজ্ঞা হইতেছে ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী নয় ঘণ্টা। ভ্রমণকারী একটি স্থানে এই অনুমান করিয়া যাত্রা বিরতি করিলে যে, বায়ান-এর গণনামতে কমপক্ষে এক মাস সে সেইখানে অবস্থান করিবে, এমতাবস্থায় উপবাস পালন তাহার পক্ষে অপরিহার্য কর্তব্য; কিন্তু এক মাসের কম হইলে, সে উপবাস পালন হইতে অব্যাহতি প্রাপ্ত। যদি সে উপবাস চলাকালীন একটি স্থানে উপস্থিত হয়,যেখানে বায়ানের গণনা অনুযায়ী তাহার এক মাস থাকার কথা, তাহা হইলে তিন দিন পর্যন্ত তাহাকে উপবাস ব্রত পালন করিতে হইবে না, তারপর অবশিষ্ট দিনগুলিতে পালন করিতে হইবে, তবে যদি সে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে পূর্বে সে যেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিল, তাহা হইলে অবশ্যই আগমনের প্রথম দিনে তাহার উপবাস শুরু করিতে হইবে।

23. প্রশ্ন: ব্যভিচার ও ব্যভিচারিণীর শাস্তি সম্বন্ধে ।
উত্তর: প্রথম অপরাধের জন্য নয় মিশ্কাল, দ্বিতীয়বারের জন্য আঠার মিশ্কাল, তৃতীয়বারের জন্য ছত্রিশ মিশ্কাল, এবং এইভাবে যথাক্রমে পূর্ববর্তীটির দ্বিগুণ জরিমানা ধার্য হইবে। এক মিশ্কালের ওজন বায়ান-এর নির্দিষ্টকরণ অনুসারে ঊনিশ নাখুদ্-এর সমপরিমাণ।

24. প্রশ্ন: শিকার করা সম্বন্ধে।
উত্তর: তিনি মহিমান্বিত হউন, তিনি বলেন, “যদি তোমরা শিকারি পশু অথবা পক্ষী দ্বারা শিকার কর” এবং এইরূপ অন্যান্য উপায়ে যথা তীর ও ধনুক, বন্দুক এবং শিকারে ব্যবহৃত অনুরূপ সরঞ্জামের অন্তর্ভুক্তি। কিন্তু যদি ফাঁদ ও জাল ব্যবহৃত হয়, এবং যদি শিকার হস্তগত হইবার আগেই মারা যায়, তাহা হইলে ইহা ভক্ষণের জন্য অবৈধ।

25. প্রশ্ন: তীর্থযাত্রা সম্বন্ধে:
উত্তর: দুইটি পবিত্র গৃহের একটিতে তীর্থযাত্রা করা একটি কর্তব্য; কিন্তু কোনটিতে, তাহা স্থির করিবার দায়িত্ব তীর্থযাত্রীর।

26. প্রশ্ন: পণ সম্বন্ধে।
উত্তর: পণ সম্বন্ধে, উদ্দেশ্য থাকিবে নিম্নতম স্তর উনিশ মিশ্কাল রৌপ্য লইয়া পরিতৃপ্ত থাকা।

27. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধে: “যদি, কোনভাবে তাহার স্বামীর মৃত্যুর খবর তাহার নিকট পৌঁছায়”, ইত্যাদি।
উত্তর: অপেক্ষার সময় সম্বন্ধে একটি “স্থিরীকৃত মাসের সংখ্যা” নয় মাস সময়ের একটি ব্যাপ্তিকাল অভিপ্রেত।

28. প্রশ্ন: শিক্ষকের উত্তরাধিকারের অংশ সম্বন্ধে পুনরায় অনুসন্ধান করা হইয়াছে।
উত্তর: যদি শিক্ষকটি মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তাহা হইলে উত্তরাধিকারের তাহার অংশের এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে, এবং অবশিষ্ট তিন ভাগের দুই ভাগ মৃতের সন্তানদের অংশে যাইবে, শিক্ষকের নহে।

29. প্রশ্ন: তীর্থযাত্রা সম্বন্ধে পুনরায় অনুসন্ধান করা হইয়াছে।
উত্তর: লোকদের প্রতি পবিত্র গৃহে তীর্থযাত্রার আদেশদানের দ্বারা - বাগদাদের মহামহিম গৃহ এবং শিরাজে আদিবিন্দুর গৃহ- উভয়কেই বুঝাইতেছে; এই গৃহদ্বয়ের যে কোনটিতে তীর্থযাত্রা যথেষ্ট হইবে। তাহারা যেখানে বসবাস করে তাহার নিকটবর্তী যে কোনটিতে তাহারা তীর্থযাত্রা করিতে পারে।

30. প্রশ্ন: শ্লোকটি সম্বন্ধে: “যে কেহ একজন কুমারীকে তাহার সেবায় নিয়োগ করিতে ইচ্ছা করিবে, সে তাহা শালীনতার সঙ্গে করিতে পারে”।
উত্তর: এইটি শুধুমাত্র সেবার জন্য- যেরূপ যে কোন শ্রেণীর ভৃত্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সম্পাদন করিয়া থাকে তাহা তাহারা তরুণী হউক অথবা বৃদ্ধা হউক; এইরূপ একজন কুমারী যে কোন সময় তাহার ইচ্ছা মাফিক একজন স্বামী বাছিয়া লইতে মুক্ত, কারণ নারীদের ক্রয় করা এবং একজন পুরুষের দুইয়ের অধিক স্ত্রী থাকা অবৈধ।

31. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধেঃ “পরম প্রভু নিষিদ্ধ করিয়াছেন... ঐ প্রচলিত প্রথা, পূর্বে তোমরা যে প্রথার আশ্রয় লইয়াছিলে যখন তিন বার তোমরা একজন নারীকে তালাক দিয়াছিলে”।
উত্তর: প্রসঙ্গটি হইতেছে সেই আইনের প্রতি যাহা পূর্ববর্তী সময়ে একজন নারীকে তাহার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইবার পূর্বে অন্য একজন পুরুষের সহিত তাহার বিবাহ অপরিহার্য ছিল; এই প্রচলিত প্রথা কিতাব-ই-আক্বদাস-এ নিষিদ্ধ ঘোষিত হইয়াছে।

32. প্রশ্ন: যমজস্থানে গৃহ দুইটি এবং অন্য স্থানসমূহ যেইখানে সিংহাসনটি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে, উহাদের সংস্কার ও সংরক্ষণ সম্বন্ধে।
উত্তর: দুইটি গৃহের দ্বারা মহামহিম গৃহ ও আদিবিন্দুর গৃহ বুঝাইতেছে। অন্য স্থানসমূহের ক্ষেত্রে - যেখানে সেইগুলি অবস্থিত - সেখানকার লোকেরা হয়; প্রতিটি গৃহ, যেখানে সিংহাসনটি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল অথবা উহাদের যে কোন একটিকে সংরক্ষণের জন্য মনোনীত করিতে পারে।

33. প্রশ্ন: শিক্ষকের উত্তরাধিকার সম্বন্ধে পুনরায় অনুসন্ধান করা হইয়াছে।
উত্তর: যদি শিক্ষকটি বাহা’র জনগণের মধ্য হইতে না হয়, তাহা হইলে সে উত্তরাধিকার লাভ করিবে না। যদি কয়েকজন শিক্ষক থাকে, তাহা হইলে অংশটি তাহাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করিয়া দিতে হইবে। যদি শিক্ষকটি মৃত হয়, তাহা হইলে তাহার  সন্তান-সন্ততি উত্তরাধিকার সূত্রে তাহার অংশ পাইবে না, বরং ইহার দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তির মালিকের শিশুদের কাছে প্রত্যাবর্তন করিবে, এবং অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশটি বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে।

34. প্রশ্ন: বাসগৃহ প্রসঙ্গে যাহা কেবল পুরুষ সন্তানের জন্য নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে। 
উত্তর: যদি কয়েকটি বাসগৃহ থাকে, এইগুলির মধ্যে উৎকৃষ্টতম ও দেখিতে চমৎকারতম বাসগৃহটিকে উপলক্ষ্য করা হইয়াছে, অন্যগুলি যে কোন সম্পত্তির ন্যায় সমস্ত উত্তরাধিকারের মধ্যে ভাগ করিয়া দিতে হইবে। যে কোন উত্তরাধিকারী, যে ঈশ্বরের ধর্ম-বহির্ভূত, অস্তিত্ববিহীনরূপে গণ্য হইবে এবং উত্তরাধিকার লাভ করিবে না।

35. প্রশ্ন: নওরোজ সম্বন্ধে।
উত্তর: নওরোজ উৎসব শুরু হয় যেই দিন সূর্য মেষরাশিতে* প্রবেশ করে, এমনকি যদি ইহা সূর্যাস্তের অনধিক এক মিনিট পূর্বেও সংঘটিত হয়।

36. প্রশ্ন: যদি যমজ জন্মদিবসসমূহ অথবা বা’ব-এর ঘোষণা দিবসের কোন একটি বার্ষিকী উপবাসব্রত পালনকালীন ঘটে, তাহা হইলে কি করতে হবে?
উত্তর: যমজ জন্মদিবসসমূহ অথবা বা’ব-এর ঘোষণা দিবসের উৎসবের ভোজানুষ্ঠান উপবাসের মাসের মধ্যে পতিত হয়, উপবাস পালনের আদেশ ঐ দিনে প্রযোজ্য হইবে না।

37. প্রশ্ন: উত্তরাধিকার নির্ণয়কারী পবিত্র অনুবিধিসমূহে, মৃতের বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ পুরুষ সন্তানের সন্ততিকে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইয়াছে। এই শর্ত কি শুধুমাত্র পিতার সম্পত্তিকে নির্দেশ করিতেছে, অথবা মাতার সম্পত্তির প্রতিও ইহা প্রযোজ্য হইতেছে?

উত্তর: মাতার ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ কন্যাদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করিয়া দিতে হইবে, কিন্তু তাহার অবশিষ্ট ভূসম্পত্তি, তন্মধ্যে বিষয়-সম্পত্তি, সর্বপ্রকার অলংকার এবং অব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ কিতাব-ই-আক্বদাস-এ প্রকাশিত রীতিতে তাহার সমস্ত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিতে হইবে। কিন্তু, যদি মৃতের কোন কন্যা সন্তান না থাকে, তাহা হইলে সম্পূর্ণভাবে তাহার সম্পত্তি পবিত্র গ্রন্থে পুরুষদের জন্য বর্ণিত রীতিতে ভাগ করিয়া দিতে হইবে।

38. প্রশ্ন: তালাক সম্বন্ধে- যাহা অবশ্য ধৈর্য্য ধারণের এক বৎসর দ্বারা অনুসৃত হইতে হইবে: যদি মাত্র একটি পক্ষ পুনর্মিলনে ইচ্ছুক হয়, তাহা হইলে কি করিতে হইবে?
উত্তর: কিতাব-ই-আক্বদাস-এ প্রকাশিত আদেশ অনুসারে উভয় পক্ষকেই রাজি হইতে হইবে। উভয় পক্ষ ইচ্ছুক না হইলে পুনর্মিলন ঘটিতে পারিবে না।

39. প্রশ্ন: পণের বিষয়ে, কি হইবে যদি বর এই পণের সম্পূর্ণ পরিমাণ পরিশোধ না করিতে পারে, কিন্তু তদস্থলে বিবাহ উৎসবের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে সে তাহার নববধূকে এই মর্মে একটি লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করিয়া থাকে যে যখন সে ইহা পালনে সক্ষম হইবে, সে ইহা পরিশোধ করিবে।
উত্তর: বিধিসংগত ক্ষমতার উৎস হইতে এই প্রথা গ্রহণ করিতে অনুমতি দেওয়া হইয়াছে।

40. প্রশ্ন: যদি ধৈর্যের বৎসর চলাকালীন স্নেহ-মমতার সুঘ্রাণের পুনরুদ্ভব হয়কিন্তু তাহার পরেই বিতৃষ্ণা-বিরাগের আগমন ঘটে এবং দম্পতিটি সারা বৎসর ব্যাপিয়া স্নেহ-মমতা ও বিদ্বেষ-বিতৃষ্ণার মধ্যে দোলায়মান হয়, এবং বৎসরটি বিদ্বেষ-বিতৃষ্ণার মধ্য দিয়া শেষ হয়, তাহা হইলে বিবাহ-বিচ্ছেদ কার্যকরী হইতে পারে কি-না?
উত্তর: প্রত্যেক অবস্থায় যে কোন সময় বিদ্বেষ-বিতৃষ্ণার উদ্ভব ঘটে, ধৈর্যের বৎসর ঐ দিনেই শুরু হয়, এবং বৎসরটিকে গণনায় পূর্ণ বৎসর হইতে হইবে।

41. প্রশ্ন: মৃতের বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ পুরুষ সন্তানকে বরাদ্দ করা হইয়াছে, নারী সন্তানকে নহে, অন্য কোন উত্তরাধিকারীকেও দেওয়া হয় নাই; মৃত ব্যক্তিটি কোন পুরুষ সন্তান রাখিয়া না গেলে, কি করিতে হইবে?
উত্তর: তিনি মহিমান্বিত হউন, তিনি বলেন ঃ “মৃত ব্যক্তিটি সন্তান রাখিয়া না গেলে, তাহাদের অংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে...”। এই পবিত্র শ্লোক অনুসারে, মৃত ব্যক্তিটির বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে।

42. প্রশ্ন: হুকুকুল্লাহ্র অধ্যাদেশ কিতাব-ই-আক্বদাস-এ প্রকাশিত হইয়াছে। বাসগৃহটি কি ইহার সহিত যুক্ত বস্তুসমূহ ও প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জামসহ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত, যাহার উপর হুকুক্ প্রদানযোগ্য কি-না? 
উত্তর: পারস্য ভাষায় প্রকাশিত আইনসমূহে আমরা আদেশ করিয়াছি যে, এই মহাশক্তিশালী ধর্মবিধানে বাসগৃহ ও পারিবারিক সাজ-সরঞ্জাম অব্যাহতি প্রাপ্ত অর্থাৎ এইরূপ সাজ-সরঞ্জাম যাহা অত্যাবশ্যক।

43. প্রশ্ন: বয়ঃপ্রাপ্তিতে পৌঁছার পূর্বে একটি বালিকার বিবাহের বাগদান সম্বন্ধে।
উত্তর: বিধিসংগত ক্ষমতার উৎস দ্বারা এই প্রচলিত প্রথা অবৈধ ঘোষিত হইয়াছে, এবং বিবাহের পূর্বে পঁচানব্বই দিনের পূর্বে একটি বিবাহের ঘোষণা দেওয়া অবৈধ।

44. প্রশ্ন: দৃষ্টান্তস্বরূপ, যদি এক ব্যক্তির একশত তুমান থাকে, এই পরিমাণের উপর হুকুকুল্লাহ্ প্রদান করে, এবং অসফল লেনদেনের ফলে এই অংকের অর্ধেক হাতছাড়া হইয়া যায় এবং অতঃপর ব্যবসায়ের দ্বারা পুনরায় ঐ পরিমাণ অর্থ হাতে আসে যাহার উপর হুকুক্ প্রদানযোগ্য হয়, Ñ এইরূপ লোককে অবশ্যই হুকুকুল্লাহ্ পরিশোধ করিতে হইবে কি-না?
উত্তর: এইরূপ অবস্থায় হুকুকুল্লাহ্ প্রদানযোগ্য নহে।

45. প্রশ্ন: যদি হুকুক্ পরিশোধের পর একশত তুমানের এই একই পরিমাণ সম্পূর্ণ খোয়া যায়, কিন্তু পরবর্তীকালে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তগত হয়, দ্বিতীয় বার অবশ্যই হুকুক্ পরিশোধ করিতে হইবে কি-না?
উত্তর: এই অবস্থায়ও হুকুক্ পরিশোধের প্রয়োজন নাই।

46. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধে, “ঈশ্বর তোমাদের প্রতি বিবাহের বিধান দিয়াছেন”, এই বিধান বাধ্যতামূলক কি-না?
উত্তর: ইহা বাধ্যতামূলক নহে।

47. প্রশ্ন: ধরা যাক একজন পুরুষ একজন নারীকে কুমারী বলিয়া বিশ্বাস করিয়া বিবাহ করিল এবং তাহাকে তাহার পণ পরিশোধ করিয়াছে, কিন্তু বিবাহকার্যটি আইনতঃ সিদ্ধ করিবার সময় ইহা স্পষ্ট হইল যে সে কুমারী নহে, এমতাবস্থায় বিবাহের ব্যয় ও পণ ফেরত দিতে হইবে কি-না? এবং যদি বিবাহটি কুমারীত্বের শর্ত সাপেক্ষে হইয়া থাকে, তাহা হইলে কি অসম্পূর্ণ শর্তটি - যাহার উপর ইহা শর্তাধীন ছিল- ইহাকে বাতিল বা অসিদ্ধ করিবে?
উত্তর: এইরূপ ক্ষেত্রে বিবাহের ব্যয় ও পণ ফেরত দেওয়া যাইতে পারে। অসম্পূর্ণ শর্ত, যাহার উপর বিষয়টি শর্তাধীন উহাকে বাতিল করে। তবে বিষয়টি গোপন এবং ক্ষমা করা হইলে, তাহা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে একটি বদান্য পুরস্কারের যোগ্য হইবে।

48. প্রশ্ন: “তোমাদের উপর একটি ভোজানুষ্ঠানের আদেশ দেওয়া হইয়াছে...” ইহা বাধ্যতামূলক কি না?
উত্তর: ইহা বাধ্যতামূলক নহে।

49. প্রশ্ন: ব্যভিচার, পায়ুকাম এবং চুরির জরিমানা ও উহার পরিমাণ সম্বন্ধে। 
উত্তর: এই জরিমানাসমূহের পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্ব বিচারালয়ের আওতাধীন।

50. প্রশ্ন: আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিবাহের বৈধতা বা অবৈধতা সম্বন্ধে।
উত্তর: একইভাবে, এই বিষয়গুলি বিচারালয়ের অছিবৃন্দের আওতাধীন।

51. প্রশ্ন: অভিসিঞ্চন সম্বন্ধে, ইহা প্রকাশিত হইয়াছে, “অভিসিঞ্চনের জন্য জল না পাওয়া গেলে সে পাঁচ বার এই কথাগুলি আবৃত্তি করুক, ‘পরমপবিত্র, পরমপবিত্র ঈশ্বরের নামে”: তীব্র শীতের সময়ে, অথবা হস্তদ্বয় বা মুখমন্ডল যদি ক্ষতযুক্ত থাকে, তখনও কি এই শ্লোক আবৃত্তি করা অনুমোদনীয়?
উত্তর: তীব্র শীতের সময় উষ্ণ জল ব্যবহার করা যাইতে পারে। হস্তদ্বয় বা মুখমন্ডল যদি ক্ষতযুক্ত থাকে, অথবা অন্য কারণ থাকে যেমন বেদনা ও যন্ত্রণা যাহার জন্য জলের ব্যবহার ক্ষতিকর হইবে, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্ধারিত শ্লোকটি অভিসিঞ্চনের পরিবর্তে আবৃত্তি করিতে পারে।

52. প্রশ্ন: শুভ-অশুভ লক্ষণাদির প্রার্থনাটিকে প্রতিস্থাপন করিবার জন্য প্রকাশিত শ্লোকটির আবৃত্তিকরণ কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: ইহা বাধ্যতামূলক নহে।

53. প্রশ্ন: উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে, যখন আপন ভাইয়েরা ও আপন বোনেরা বিদ্যমান, তখন কি বিমাতার দিকের ভাইয়েরা এবং বোনেরাও একটি অংশ পাইবে?
উত্তর: তাহারা কোন অংশ পাইবে না।

54. প্রশ্ন: তিনি মহিমামন্বিত হউন, তিনি বলেন: “মৃত ব্যক্তির পুত্রটি পিতার জীবদ্দশায় সন্তান রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে, তাহারা তাহাদের পিতার অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করিবে.... ” যদি কন্যাটি তাহার পিতার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করে, তাহা হইলে কি হইবে?
উত্তর: পবিত্র গ্রন্থের অধ্যাদেশ অনুসারে তাহার উত্তরলব্ধির অংশ সাত শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিতে হইবে।

55. প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তিটি যদি একজন নারী হয়, তাহা হইলে “স্ত্রীর” উত্তরলব্ধির অংশ কাহাকে বণ্টন করিয়া দিতে হইবে?
উত্তর: “স্ত্রীর” উত্তরলব্ধির অংশ স্বামীকে দিতে হইবে।

56. প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তির শবাচ্ছাদন প্রসঙ্গে পাঁচটি চাদরের বিধান দেওয়া হইয়াছে: এই পাঁচ কি ৫টি বস্ত্রকে নির্দেশ করে যাহা গতানুতিকভাবে অদ্যাবধি ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে অথবা একটির উপর অপরটি মোড়ানো ৫টি পূর্ণাবয়ব শবাচ্ছাদনকে বুঝাইতেছে?
উত্তর: পাঁচটি বস্ত্রের ব্যবহার অভিপ্রেত।

57. প্রশ্ন: নির্দিষ্ট কিছু অবতীর্ণ শ্লোকের মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে।
উত্তর: অনেক ফলকলিপি অবতীর্ণ হইয়াছিল এবং পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ব্যতীত এইগুলির মূল আকারে প্রেরণ করা হইয়াছিল। ফলস্বরূপ, আদিষ্ট হইয়া, এইগুলিকে পবিত্র উপস্থিতির সম্মুখে পুনরায় পাঠ করা হইয়াছিল এবং ধর্মের বিরোধীদের অসার আপত্তির সম্ভাবনা অনুমান করিয়া তাহা ব্যর্থ করিয়া দেওয়ার জন্য জনগণের মধ্যে প্রচলিত ব্যাকরণের প্রয়োগ পদ্ধতির সহিত সংগতিশীল করা হইয়াছিল। এই প্রয়োগ পদ্ধতির অপর কারণ হইতেছে, অগ্রদূত, যিনি ব্যতীত অপর সকলের আত্মা তাঁহার জন্য উৎসর্গীকৃত হউক, কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নূতন পদ্ধতিতে ব্যাকরণের নিয়মাবলী পালনে উদারতা পরিলক্ষিত হইয়াছিল; এইজন্য পবিত্র শ্লোকগুলি অতঃপর এমন এক পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হইয়াছিল যাহা সহজ বোধগম্যতা এবং প্রকাশের সংক্ষিপ্ততায় অধিকাংশ প্রচলিত প্রয়োগ পদ্ধতির সহিত সংগতিশীল।

58. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি প্রসঙ্গে, “ভ্রমণকালীন যদি তোমরা কোন নিরাপদ স্থানে যাত্রা বিরতি কর ও বিশ্রাম গ্রহণ কর, তাহা হইলে তোমরা... যে প্রার্থনা করিতে পার নাই তাহার পরিবর্তে একটিমাত্র প্রণতিপাত কর”: ইহা কি অনিরাপদ অবস্থার কারণে বাদ পড়া বাধ্যতামূলক প্রার্থনার জন্য ক্ষতিপূরণ, অথবা সফরকালে বাধ্যতামূলক প্রার্থনা কি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত এবং প্রণতিপাত ইহার স্থান গ্রহণ করে?
উত্তর: যখন বাধ্যতামূলক প্রার্থনার সময় আসে, তখন যদি সেইখানে নিরাপত্তা না থাকে, তাহা হইলে নিরাপদ পরিবেশে আগমনের পর ব্যক্তিটি বাদ পড়া প্রতিটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনার পরিবর্তে একটি করিয়া প্রণতিপাত করিবে, এবং শেষ প্রণতিপাতের পর পদযুগল আড়াআড়ি করিয়া বসিয়া নির্দিষ্ট শ্লোকটি আবৃত্তি করিতে হইবে। যদি নিরাপদ স্থান হয়, তাহা হইলে ভ্রমণকালে বাধ্যতামূলক প্রার্থনা স্থগিত নহে।

59. প্রশ্ন: যদি একজন ভ্রমণকারীর যাত্রা বিরতি ও বিশ্রামের পর বাধ্যতামূলক প্রার্থনার সময় হইয়া যায়, তাহা হইলে কি তাহাকে বাধ্যতামূলক প্রার্থনা পড়িতে হইবে, অথবা ইহার পরিবর্তে প্রণতিপাত করিতে হইবে?
উত্তর: অনিরাপদ পরিবেশ ছাড়া বাধ্যতামূলক প্রার্থনা বাদ দেওয়া অনুমোদনীয় নহে।

60. প্রশ্ন: বাদ পড়া বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহের জন্য যদি কিছুসংখ্যক প্রণতিপাতের প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে প্রতিটি ক্ষতিপূরক প্রণতিপাতের পর শ্লোকটি আবৃত্তি করিতে হইবে কি-না?
উত্তর: শেষ প্রণতিপাতের পর নির্দিষ্ট শ্লোকটি আবৃত্তি করা যথেষ্ট। কয়েকটি প্রণতিপাতের জন্য শ্লোকটির পৃথক পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নাই।

61. প্রশ্ন: যদি একটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনা গৃহে বাদ পড়ে, একটি প্রণতিপাতের দ্বারা ইহার ক্ষতিপূরণ করিতে হইবে কি-না?
উত্তর: পূর্বের প্রশ্নাবলীর উত্তরে ইহা লিখিত হইয়াছে; “ক্ষতিপূরণ প্রণতিপাত সম্বন্ধে এই অনুবিধি গৃহে ও ভ্রমণে উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য”।

62. প্রশ্ন: যদি কোন লোক অন্য উদ্দেশ্যে অভিসিঞ্চন করিয়া থাকে, এবং বাধ্যতামূলক প্রার্থনার সময় হইয়া যায়, তাহা হইলে কি এই অভিসিঞ্চন-ই যথেষ্ট হইবে, না এইগুলি নবায়ন করিতে হইবে?
উত্তর: এই একই অভিসিঞ্চন যথেষ্ট, এইগুলি নবায়নের প্রয়োজন নাই।

63. প্রশ্ন: কিতাব-ই-আক্বদাস-এ অপরাহ্ণে, প্রভাতে ও সন্ধ্যায় নয় রাকাতের অন্তর্ভুক্ত বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্পাদনের আদেশ দেওয়া হইয়াছে, কিন্তু বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহের ফলকলিপি* -ইহা হইতে ভিন্ন বলিয়া মনে হয়।
উত্তর: কিতাব-ই-আক্বদাস-এ যাহা প্রকাশিত হইয়াছে তাহা একটি ভিন্ন বাধ্যতামূলক প্রার্থনা প্রসঙ্গে। কয়েক বৎসর পূর্বে কিতাব-ই-আক্বদাস-এর কিছুসংখ্যক অধ্যাদেশসহ ঐ বাধ্যতামূলক প্রার্থনাটি, বিজ্ঞতাবশতঃ, পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং অন্যান্য পবিত্র লিখনাবলীর সহিত একত্রে নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হইয়াছিল। পরবর্তীকালে এই তিনটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনা প্রকাশ করা হইয়াছিল।

64. প্রশ্ন: সময় নির্ধারণের জন্য কি বড় ঘড়ি ও হাতঘড়ির উপর নির্ভর করা অনুমোদনীয়?
উত্তর: বড় ঘড়ি ও হাতঘড়িসমূহের উপর নির্ভর করা অনুমোদনীয়।

65. প্রশ্ন: বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহের ফলকলিপিতে তিনটি প্রার্থনা প্রকাশিত হইয়াছে; এই তিনটি প্রার্থনার সবগুলির সম্পাদন প্রয়োজন কি-না?
উত্তর: এই তিনটির মধ্যে একটি করার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে; যে কোনটির সম্পাদন যথেষ্ট হইবে।

66. প্রশ্ন: ভোরের প্রার্থনার জন্য করা অভিসিঞ্চন কি দ্বিপ্রহরের প্রার্থনার জন্য বৈধ? এবং অনুরূপভাবে, দ্বিপ্রহরে করা অভিসিঞ্চন কি সান্ধ্য প্রার্থনায় বৈধ?
উত্তর: অভিসিঞ্চন বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্পাদনের সহিত সংশ্লিষ্ট, এবং প্রত্যেক প্রার্থনার জন্য অবশ্য-ই নবায়ন করিতে হইবে।

67. প্রশ্ন: দীর্ঘ বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্বন্ধে, সোজা হইয়া দাঁড়ানো ও “ঈশ্বরের পানে মুখ ফিরানো” প্রয়োজন। মনে হইতেছে ইহা নির্দেশ করে যে কিব্লাহ্মুখী হইবার প্রয়োজন নাই; ইহা কি তদ্রƒপ? অথবা না।
উত্তর: কিব্লাহ্মুখী হওয়া অভিপ্রেত।

68. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধে: “তোমরা ঈশ্বরের পবিত্র শ্লোকসমূহ প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় আবৃত্তি কর”।
উত্তর: উদ্দেশ্য হইতেছে উহাদের সবগুলি যাহা ঐশী উচ্চারণের স্বর্গ হইতে অবতীর্ণ হইয়াছে । ঈশ্বরের বাণী পাঠ করিবার জন্য প্রধান আবশ্যকীয় হইতেছে আগ্রহ ও পবিত্র আত্মার ভালবাসা। আনন্দ ও উজ্জ্বলতার চেতনায় একটি শ্লোক, অথবা এমনকি একটি শব্দ পাঠ করা, অনেক পবিত্র গ্রন্থ পাঠ অপেক্ষা অধিকতর বাঞ্ছনীয়।

69. প্রশ্ন: একজন লোক কি তাহার ইষ্টিপত্র রচনাকালে Ñ হুকুকুল্লাহ্ প্রদান ও ঋণসমূহ পরিশোধের জন্য বরাদ্দকৃত পরিমাণের অতিরিক্ত Ñ তাহার সম্পত্তির কিছু অংশ দাতব্য কাজে বণ্টন করিতে পারে? না-কি সে তাহার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধিস্থ করিবার ব্যয় নির্বাহ করিবার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বণ্টনের অধিকারী নহে, যেন তাহার সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মনোনীত শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হইতে পারে?
উত্তর: একজন লোকের তাহার সম্পত্তির উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব রহিয়াছে। যদি সে হুকুকুল্লাহ্র ভার মুক্ত করিতে সমর্থ হয় এবং ঋণমুক্ত হয়, তাহা হইলে যাহা কিছু তার ইষ্টিপত্রে লিপিবদ্ধ রহিয়াছে এবং যে কোন ঘোষণা অথবা প্রতিশ্রুতি ইহার মধ্যে থাকে, তাহা গ্রহণযোগ্য হইবে। সত্য সত্যই, ঈশ্বর তাহাকে যাহা কিছু প্রদান করিয়াছেন তাহা তাহার ইচ্ছামত যে কোনভাবে বণ্টনের অনুমতি তাহাকে দিয়েছেন।

70. প্রশ্ন: সমাধিস্থ করিবার সময় প্রদত্ত আংটিটি কি কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দেশিত? অথবা ইহা কি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও? 
উত্তর: ইহা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। অনুরূপভাবে, মৃতদের জন্য প্রার্থনা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।

71. প্রশ্ন: একজন লোক “আলা” মাসে ছাড়া অন্য কোন সময় উপবাস করিতে ইচ্ছা করিলে ইহা অনুমোদনীয় হইবে কি না? এবং সে যদি নিজে এইরূপ একটি উপবাস ব্রত পালনের প্রতিজ্ঞা অথবা অঙ্গীকার করিয়া থাকে, তাহা হইলে ইহা কি বৈধ ও গ্রহণযোগ্য?
উত্তর: উপবাসের বিধান তদ্রƒপ যাহা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হইয়াছে। তাহা সত্ত্বেও, একটি ইচ্ছাপূরণের লক্ষ্যে এইভাবে কেহ যদি ঈশ্বরের কাছে একটি উপবাস সমর্পণ করিতে অঙ্গীকার করিলে তাহা পূর্বের ন্যায় এখনও অনুমোদনযোগ্য। তথাপি, ইহা ঈশ্বরের ইচ্ছা যে, তাঁহার গৌরব মহিমান্বিত হউক, ব্রত পালনের প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারসমূহ এইরূপ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হউক, যাহা মানবজাতিকে লাভবান করিবে।

72. প্রশ্ন: বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ সম্বন্ধে আবার একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হইয়াছে: পুরুষ সন্তানের অবর্তমানে কি এইগুলি বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে? অথবা এইগুলি কি সম্পত্তির বাকি অংশের ন্যায় বণ্টিত হইবে?
উত্তর: বাসগৃহের ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদের দুই-তৃতীয়াংশ কন্যা সন্তানের এবং এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ের হস্তগত হইবে, ঈশ্বর বিচারালয়কে লোকদের ধনাগার করিয়াছেন।

73. প্রশ্ন: যদি ধৈর্যের বৎসরান্তে, স্বামী বিবাহবিচ্ছেদ অস্বীকার করে, স্ত্রী কোন পন্থা অবলম্বন করিবে?
উত্তর: যখন ব্যাপ্তিকাল শেষ হইবে, তখন বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হইয়া যাইবে। তবে ইহা অত্যাবশ্যক যে, এই সময়ের শুরু ও শেষ হইবার একাধিক সাক্ষী থাকিতে হইবে, যাহাতে প্রয়োজন হইলে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাহাদেরকে ডাকা যাইতে পারে।

74. প্রশ্ন: বার্ধক্যের সংজ্ঞা সম্বন্ধে।
উত্তর: আরবদের কাছে ইহা বার্ধক্যের দূরবর্তীতম প্রান্ত নির্দেশ করে, কিন্তু বাহা'র জনগণের জন্য ইহা সত্তর বৎসর বয়স হইতে।

75. প্রশ্ন: পদব্রজে ভ্রমণরত কোন লোকের জন্য উপবাসের সীমা সম্বন্ধে।
উত্তর: সীমা দুই ঘণ্টায় নির্ধারিত হইয়াছে। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে উপবাস ভঙ্গ করা অনুমোদনীয়।

76. প্রশ্ন: উপবাসের মাসে কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত লোকদের উপবাস পালন সম্বন্ধে।
উত্তর: এইরূপ লোকদের উপবাস পালন হইতে অব্যহতি দেওয়া হইয়াছে; তাহা সত্ত্বেও, ঈশ্বরের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ও উপবাসের মর্যাদা সমুন্নত রাখিবার জন্য পরিমিত ভাবে ও নির্জনে খাদ্যগ্রহণ করা সর্বাধিক প্রশংসনীয় ও উপযুক্ত।

77. প্রশ্ন: বাধ্যতামূলক প্রার্থনার জন্য কৃত অভিসিঞ্চন সর্বমহান নামের পঁচানব্বই বার আবৃত্তির জন্য যথেষ্ট হইবে?
উত্তর: অভিসিঞ্চনের নবায়ন অপ্রয়োজনীয়।

78. প্রশ্ন: স্ত্রীর জন্য স্বামীর ক্রয় করা পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার সম্বন্ধে: স্বামীর মৃত্যুর পর এইগুলি কি তাহার (স্বামীর) উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করিতে হইবে? অথবা এইগুলি কি বিশেষভাবে স্ত্রীর জন্য?
উত্তর: ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যতীত, যাহা কিছু আছে, তাহা অলংকার বা অন্য কিছু হউক, উহাদের সব-ই স্বামীর অধিকারভুক্ত কেবল নিশ্চিতভাবে স্ত্রীকে প্রদত্ত উপহারসমূহ ব্যতীত।

79. প্রশ্ন: দুইজন ন্যায়বান সাক্ষীর সাক্ষ্যের উপর নির্ভরশীল কোন বিষয় প্রমাণকালীন ন্যায়পরায়ণতার মানদ- সম্বন্ধে।
উত্তর: ন্যায়পরায়ণতার মানদ- হইল লোকদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম। ঈশ্বরের সমস্ত ভৃত্যদের সাক্ষ্য, যে কোন ধর্ম বা মতের হোক না কেন, তাঁহার সিংহাসনের সম্মুখে গ্রহণযোগ্য।

80. প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তিটি যদি তাহার হুকুকুল্লাহ্ প্রদান না করিয়া থাকে, এমনকি অন্যান্য ঋণও পরিশোধ না করিয়া থাকে, তাহা হইলে কি এইসব বাসগৃহ, ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ ও সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ হইতে যথানুপাতিক হারে বাদ দিয়া ঋণমুক্ত করিতে হইবে? না-কি বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ পুরুষ  সন্তানের জন্য আলাদা করিয়া রাখিতে হইবে এবং ফলস্বরূপ, ঋণসমূহ কি সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ হইতে পরিশোধ করিতে হইবে? এবং সম্পত্তির এই অবশিষ্টাংশ এই উদ্দেশ্যের জন্য যদি অপর্যাপ্ত হয়, ঋণসমূহ কিভাবে পরিশোধ করিতে হইবে?
উত্তর: অপরিশোধিত ঋণসমূহ ও হুকুকুল্লাহ্র নিষ্পত্তি সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ হইতে করিতে হইবে, কিন্তু এই উদ্দেশ্যে যদি ইহা অপর্যাপ্ত হয়, তাহা হইলে তাহার বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ হইতে ঘাটতি পূরণ করিতে হইবে।

81. প্রশ্ন: তৃতীয় বাধ্যতামূলক প্রার্থনাটি কি বসা অবস্থায় অথবা দাঁড়ানো অবস্থায় করিতে হইবে?
উত্তর: একটি বিনীত ভক্তির মনোভাব লইয়া দন্ডায়মান হওয়া পছন্দনীয় ও অধিকতর উপযুক্ত।

82. প্রশ্ন: প্রথম বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্বন্ধে আদেশ দেওয়া হইয়ছে, “কোন লোক যে কোন সময় যখন নিজেকে অতীব বিনম্রতা ও আকুল আকাক্সক্ষাপূর্ণ আরাধনার একটি মানসিক অবস্থায় দেখিতে পাইবে, তখন তাহাকে ইহা সম্পাদন করিতে হইবে,” ইহা কি চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে একবার নাকি একাধিক বার সম্পাদন করিতে হইবে?
উত্তর: চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে একবারই যথেষ্ট; ইহা তাহা-ই যাহা স্বর্গীয় আদেশের রসনা দ্বারা উচ্চারিত হইয়াছে।

83. প্রশ্ন: “সকাল”, “দুপুর” ও “সন্ধ্যার” সংজ্ঞা সম্বন্ধে।
উত্তর: এইগুলি হইতেছে সূর্যোদয়, দ্বিপ্রহর ও সূর্যাস্ত। বাধ্যতামূলক প্রার্থনার অনুমোদনীয় সময়গুলি হইতেছে সকাল হইতে দুপুর পর্যন্ত, দুপুর হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, এবং সূর্যাস্ত হইতে দুই ঘণ্টার পর পর্যন্ত। কর্তৃত্ব ঈশ্বরের হস্তে, যিনি দুইটি নামের বাহক।

84. প্রশ্ন: একজন বিশ্বাসীর পক্ষে কি একজন অবিশ্বাসীকে বিবাহ করা অনুমোদনীয়?
উত্তর: বিবাহ করা ও বিবাহ দেওয়া, উভয়ই অনুমোদনীয়; এইরূপই পরম প্রভু আদেশ দিয়াছিলেন, যখন তিনি উদারতার ও করুণার সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন।

85. প্রশ্ন: মৃতদের জন্য প্রার্থনা সম্বন্ধে: এই প্রার্থনা সমাধিস্থ করিবার পূর্বে না পরে? এবং কিব্লাহ্মুখী হওয়া কি প্রয়োজনীয়?
উত্তর: এই প্রার্থনার আবৃত্তি সমাধিস্থ করিবার পূর্বে হইতে হইবে; এবং কিব্লাহ্ সম্বন্ধে: “যেই দিকেই তোমরা মুখ ফিরাইবে, সেই দিকেই ঈশ্বরের মুখমন্ডল”*।

86. প্রশ্ন: বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহের যথা সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্ন প্রার্থনা এবং সকালে, দুপুরে এবং সন্ধ্যায় করণীয় প্রার্থনার মধ্যে দুইটির সময় হইতেছে দুপুরে; এইক্ষেত্রে দুইবার অভিসিঞ্চন অপরিহার্য, নাকি একবার যথেষ্ট হইবে?
উত্তর: অভিসিঞ্চনের নবায়ন অপ্রয়োজনীয়।

87. প্রশ্ন: গ্রামের অধিবাসীদের দেয় রৌপ্যের পণ সম্বন্ধে: ইহা কি কনেকে অথবা বরকে, অথবা উভয়কেই বুঝাইতেছে? এবং কি হইবে একজন যদি শহরের অধিবাসী এবং অন্যজন গ্রামের অধিবাসী হয়?
উত্তর: পণ নির্ধারিত হয় বরের আবাসস্থল দ্বারা; সে যদি একজন শহরের অধিবাসী হয়, তাহা হইলে পণ হইবে স্বর্ণের, এবং সে যদি একজন গ্রামের অধিবাসী হয়, তাহা হইলে পণ হইবে রৌপ্যের।

88. প্রশ্ন: একজন শহরের অধিবাসী এবং একজন গ্রামের অধিবাসী নির্ধারণের নীতিটি কি? একজন শহরের অধিবাসী যদি গ্রামে অথবা একজন গ্রামের অধিবাসী শহরে স্থায়ী বসবাস শুরু করে, তাহা হইলে কোন্ আদেশ প্রযোজ্য হইবে? জন্মস্থানই কি বিচার্য বিষয় হইবে?
উত্তর: নির্ধারণের নীতি হইতেছে স্থায়ী বাসস্থান এবং তাহা কোথায় তাহার উপর নির্ভর করিয়া পবিত্র গ্রন্থের নির্দেশ পালন করিতে হইবে।

89. প্রশ্ন: পবিত্র ফলকলিপিসমূহে প্রকাশিত হইয়াছে যে, যখন কোন লোক উনিশ মিশ্কাল সমতুল্য স্বর্ণ অর্জন করিয়াছে, তখন তাহাকে সেই অর্থের পরিমাণের উপর ঈশ্বরের অধিকার পরিশোধ করিতে হইবে। ব্যাখ্যা করা যাইবে কি এই ঊনিশের মধ্যে কত প্রদান করিতে হইবে?
উত্তর: ঈশ্বরের অধ্যাদেশ দ্বারা একশতের মধ্যে ঊনিশ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। ইহার উপর ভিত্তি করিয়া হিসাব করিতে হইবে। অতঃপর ঊনিশের উপর কি পরিমাণ দেয় তাহা নির্ণয় করা যাইতে পারে।

90. প্রশ্ন: যখন কাহারও সম্পদ উনিশ ছাড়াইয়া যায়, তখন কি পুনরায় হুকুক্ দেয় হইবার পূর্বে ইহাকে আরও এক উনিশ পরিমাণে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন? না-কি যে কোন পরিমাণে বৃদ্ধির উপর দেয় হইবে?
উত্তর: উনিশের সহিত যুক্ত যে কোন পরিমাণ হুকুকুল্লাহ্ প্রদান হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, যতক্ষণ না তাহা আরও এক উনিশে পৌঁছায়।

91. প্রশ্ন: বিশুদ্ধ জল এবং যে পর্যায়ে ইহা ব্যবহৃত বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকে, তাহা সম্বন্ধে। 
উত্তর: জলের অল্প পরিমাণসমূহ, যেমন এক অথবা এমনকি দুই বা তিন পেয়ালা জল মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাত্র একবার ধৌত করিবার পর অবশ্যই ব্যবহৃত বলিয়া বিবেচিত হইবে। কিন্তু যদি এক কুর* অথবা ইহার বেশি পরিমাণ জল এক বা দুই বার মুখমন্ডল ধৌতকরণের পর অপরিবর্তিত থাকে তাহা হইলে ইহার ব্যবহারে কোন আপত্তি নাই, যদি ইহার তিনটি গুণের মধ্যে কোন একটি পরিবর্তিত না হয়; দৃষ্টান্তস্বরূপ ইহার বর্ণ পরিবর্তিত হইয়াছে, এইরূপ অবস্থায় ইহা ব্যবহৃত রূপে বিবেচিত হইবে।

92. প্রশ্ন: বিবিধ প্রশ্ন সম্বন্ধে: পারস্য ভাষায় লিখিত একটি গ্রন্থে প্রাপ্ত বয়ঃপ্রাপ্তি ১৫ বৎসরে স্থির করা হইয়াছে; বিবাহ কি অনুরূপ বয়ঃপ্রাপ্তির উপর শর্তযুক্ত? নাকি ঐ সময়ের পূর্বেও অনুমোদনীয়?
উত্তর: যেহেতু ঈশ্বরের গ্রন্থে উভয় পক্ষের সম্মতির প্রয়োজন হয়, এবং যেহেতু বয়ঃপ্রাপ্তির পূর্বে তাহাদের সম্মতি অথবা ইহার অভাব নিরূপণ করিতে পারা যায় না, সেইহেতু বিবাহ বয়ঃপ্রাপ্তিতে পৌঁছানোর উপর শর্তযুক্ত এবং ঐ সময়ের পূর্বে অনুমোদনীয় নহে।

93. প্রশ্ন: রুগ্ন ব্যক্তিদের দ্বারা উপবাস ও বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্পাদন সম্বন্ধে।
উত্তর: সত্যই, আমি বলিতেছি যে বাধ্যতামূলক প্রার্থনা ও উপবাসের উচ্চ মহিমান্বিত একটি মর্যাদা রহিয়াছে। যদিও, শরীরের একটি বিশেষ অবস্থায় উহাদের গুণাবলী উপলব্ধি করা যাইতে পারে। শারীরিক অসুস্থতার সময় এই অবশ্যকরণীয় বিধানগুলির পালন অনুমোদনীয় নহে, পরম প্রভুর, তাঁহার গৌরব মহিমান্বিত হউক, সর্ব সময়ে তাঁহার আদেশ এইরূপ-ই ছিল। এইরূপ পুরুষ ও মহিলাগণ আশীষপূতঃ যাহারা মনোযোগ দেয়, এবং তাঁহার আদেশসমূহ পালন করে। সমস্ত প্রশংসা ঈশ্বরের, তিনি-ই শ্লোকসমূহ অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তিনি সন্দেহাতীত প্রমাণাবলীর প্রকাশক।

94. প্রশ্ন: মসজিদ, গির্জা ও মন্দিরসমূহ সম্বন্ধে।
উত্তর: একক সত্য ঈশ্বরের আরাধনার জন্য যাহা কিছু নির্মিত হইয়াছে, যথা মসজিদ, গির্জা ও মন্দিরসমূহ, তাঁহার নামের স্মরণার্থে ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাইবে না। ইহা ঈশ্বরের একটি আদেশ, এবং যে ইহাকে অমান্য করে সে সত্যই তাহাদের মধ্যে গণ্য, যাহারা সীমা লঙ্ঘন করিয়াছে। কোন ক্ষতিই নির্মাতাকে স্পর্শ করিতে পারে না কারণ সে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে তাহার কর্ম সম্পাদন করিয়াছে; এবং তাহার সঠিক পুরস্কার লাভ করিয়াছে এবং করিতে থাকিবে।

95. প্রশ্ন: একটি কর্মস্থলের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র সম্বন্ধে: সেইগুলি কাহার কাজ অথবা ব্যবসায় চালাইয়া যাওয়ার জন্য প্রয়োজন এইগুলি হুকুকুল্লাহ্ প্রদানের অধীন, অথবা সেইগুলি পারিবারিক সাজসজ্জার অনুরূপ একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: এইগুলি পারিবারিক সাজসজ্জার ন্যায় একই বিধানের  অন্তর্ভুক্ত।

96. প্রশ্ন: অবচয় অথবা ক্ষতি হইতে রক্ষা করিবার নিমিত্তে অছি ব্যবস্থাধীন সম্পত্তি নগদ টাকায় বা অন্য কোন আকৃতির সম্পত্তিতে বিনিময় সম্বন্ধে।
উত্তর: অবচয় অথবা ক্ষতিজনিত মূল্যহ্রাস হইতে রক্ষা করিবার জন্য অছি দ্বারা পরিচালিত সম্পত্তির বিনিময় সম্বন্ধে লিখিত প্রশ্ন বিষয়ে এইরূপ বিনিময় এই শর্তে অনুমোদনীয় যে বিনিময়টি মূল্যমানে সমান হইবে। সত্য সত্যই, তোমাদের পরম প্রভু ব্যাখ্যাদানকারী, সর্বদর্শী, এবং তিনি, সত্যই, আদেশদাতা, দিবসসমূহের প্রাচীন।

97. প্রশ্ন: শীত ও গ্রীষ্মে পদ ধৌতকরণ সম্বন্ধে।
উত্তর: উভয় ক্ষেত্রে বিধান একই; উষ্ণ জল বাঞ্ছনীয়, তবে শীতল জলে কোন আপত্তি নাই।

98. প্রশ্ন: বিবাহবিচ্ছেদ সম্বন্ধে আর একটি প্রশ্ন।
উত্তর: যেহেতু ঈশ্বর, তাঁহার গৌরব মহিমান্বিত হউক, বিবাহ বিচ্ছেদ সমর্থন করেন নাই, এই বিষয়ে কোন কিছু অবতীর্ণ হয় নাই। তবে একে অন্য হইতে আলাদা থাকাকালীন এক বৎসর শেষ না হওয়া পর্যন্ত, দুই জন বা ততোধিক লোককে সাক্ষীরূপে অবশ্যই অবগত থাকিতে হইবে; যদি শেষ পর্যন্ত, পুনর্মিলন না ঘটে তাহা হইলে বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হইবে। এই বিষয় বিচারালয়ের অছিদের দ্বারা নিযুক্ত শহরের ধর্মীয় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্তৃক নিবন্ধন দপ্তরে অবশ্যই নথিভুক্ত করিতে হইবে। এই কার্যপ্রণালীর পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য, যেন, যাহারা বোধশক্তিসম্পন্ন হৃদয়ের অধিকারী, তাহারা দুঃখভারাক্রান্ত না হয়।

99. প্রশ্ন: পরামর্শ সম্বন্ধে।
উত্তর: যদি সমবেত লোকদের প্রথম দলের মধ্যে পরামর্শ সভা মতানৈক্যে শেষ হয়, তখন ইহাতে নূতন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে, তারপর তাহাদের মধ্য হইতে সর্বমহান নামের সংখ্যা, অথবা কিছু কম বা বেশি সংখ্যক লোককে লটারি দ্বারা মনোনীত করিতে হইবে। অতঃপর পুনরায় পরামর্শ সভা শুরু করিতে হইবে, এবং ফলাফল যাহাই হউক না কেন, তাহা মানিয়া লইতে হইবে। তাহা সত্ত্বেও যদি আবারও মতভেদ দেখা দেয়, তাহা হইলে আর একবার একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করিতে হইবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত জয়ী হইবে। সত্য সত্যই, তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে সঠিক পথে পরিচালনা করেন।

100. প্রশ্ন: উত্তরাধিকার সম্বন্ধে।
উত্তর: উত্তরাধিকার সম্বন্ধে আদিবিন্দু যাহা কিছু আদেশ করিয়াছিলেন Ñ তিনি ব্যতীত আর সকলের আত্মা তাঁহার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত হউক- তাহা অত্যন্ত সন্তোষজনক। বিদ্যমান উত্তরাধিকারীগণ তাহাদের জন্য নির্ধারিত অংশসমূহ লাভ করিবে, অপরদিকে অবশিষ্টাংশের একটি বিবৃতি সর্বোচ্চের প্রাঙ্গণে অবশ্যই পেশ করিতে হইবে। তাঁহার হস্তেই রহিয়াছে কর্তৃত্বের উৎস; তিনি যাহা ইচ্ছা করেন তাহা-ই আদেশ করেন। এই বিষয়ে রহস্যের দেশে একটি আইন অবতীর্ণ হইয়াছিল, যাহা সাময়িকভাবে নিরুদ্দিষ্ট উত্তরাধিকারীদের অংশ বিদ্যমান উত্তরাধিকারীদের প্রদান করে, এইরূপ সময় না আসা পর্যন্ত যখন বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত হইবে, তখন এই বিষয়ে আদেশ ঘোষণা করা হইবে। যদিও, তাহাদের উত্তরলব্ধি যাহারা প্রাচীন সুষমার ন্যায় একই বৎসরে দেশত্যাগ করিয়াছিল, তাহাদের উত্তরাধিকারীদেরকে প্রদান করা হইয়াছে এবং ইহা তাহাদের প্রতি ঈশ্বর প্রদত্ত একটি বদান্যতা।

101. প্রশ্ন: গুপ্ত ধন সম্বন্ধে আইন।
উত্তর: কোন গুপ্ত ধন পাওয়া গেলে, উহার এক-তৃতীয়াংশ আবিষ্কারকের অধিকারভুক্ত হইবে এবং অপর দুই-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ের ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক সমস্ত লোকের মঙ্গলের জন্য ব্যয় করা হইবে। ইহা করা হইবে বিচারালয়ের প্রতিষ্ঠার পর এবং সেই সময় না আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থান ও অঞ্চলের বিশ্বাসভাজন লোকদের তত্ত্বাবধানে রাখিতে হইবে। সত্যই তিনি শাসক, আদেশদাতা, সর্বদর্শী, সর্বজ্ঞাত।

102. প্রশ্ন: যে স্থাবর সম্পত্তি মুনাফা জোগায় না তাহার উপর হুকুক্ সম্বন্ধে।
উত্তর: ঈশ্বরের আদেশ এই যে স্থাবর সম্পত্তি যাহা হইতে আয় বন্ধ হইয়া গিয়াছে, অর্থাৎ যাহা হইতে কোন লাভ অর্জিত হয় না, তাহার হুকুকুল্লাহ্ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নাই। সত্য সত্যই তিনি শাসক, দয়ালু।

103. প্রশ্ন: পবিত্র শ্লোকটি সম্বন্ধে, “যে সকল অঞ্চলে দিন ও রাতগুলি দীর্ঘ হয়, সেই সকল স্থানে ঘড়ির দ্বারা প্রার্থনার সময় নিরূপণ করিতে হইবে...”।
উত্তর: ইহা ঐ সকল ভূখন্ডকে নির্দেশ করিতেছে যেইগুলি দূরবর্তী। তবে ঐ সকল অঞ্চলে দৈর্ঘ্যরে ব্যবধান মাত্র কয়েক ঘণ্টা হইলে এই বিধান প্রযোজ্য নহে।

104. আ’বা বাদী’র প্রতি ফলকলিপিতে, এই পবিত্র শ্লোকটি অবতীর্ণ হইয়াছে: “সত্য সত্যই, আমরা প্রত্যেক পুত্রকে তাহার পিতার সেবা করিতে নির্দেশ দিয়াছি”। আদেশটি এইরূপ যাহা আমরা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিয়াছি।

105. এবং অন্য একটি ফলকলিপিতে, এই মহিমান্বিত কথাগুলি অবতীর্ণ হইয়াছে; হে মুহম্মদ! দিবসসমূহের প্রাচীন তাঁহার মুখমন্ডল তোমার দিকে ফিরাইয়াছেন- তোমার নাম উল্লেখ করিয়াছেন এবং ঈশ্বরের জনমন্ডলীকে তাহাদের সন্তানদিগকে শিক্ষাদান করিতে উপদেশ প্রদান করিতেছেন। কোন পিতা যদি শাশ্বত সম্রাটের লেখনী দ্বারা কিতাব-ই-আক্বদাস-এ লিপিবদ্ধ এই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ আদেশ অবহেলা করে, সে তাহার পিতৃত্বের অধিকারসমূহ হারাইবে, এবং ঈশ্বরের সম্মুখে অপরাধীরূপে গণ্য হইবে। মঙ্গল তাহার-ই যে পরম প্রভুর উপদেশসমূহ তাহার হৃদয়ে অঙ্কিত করিয়া রাখে এবং সুদৃঢ়ভাবে উহাদের প্রতি সংলগ্ন থাকে। সত্যই ঈশ্বর তাঁহার ভৃত্যগণের প্রতি তাহা-ই নির্দেশ করিয়াছেন যাহা তাহাদিগকে সাহায্য এবং লাভবান করিবে এবং তাঁহার নৈকট্য লাভে তাহাদিগকে সমর্থ করিবে। তিনিই আদেশদাতা, চিরস্থায়ী।

106. তিনি ঈশ্বর, মহিমা ও শক্তির পরম প্রভু, তিনি মহিমান্বিত হউন! ন্যায়পরায়ণতা ও বোধগম্যতার প্রাণবন্ত সলিলসমূহ দ্বারা মানব অস্তিত্বের বৃক্ষসমূহকে পরিপুষ্ট করিবার জন্য একক সত্য ঈশ্বর, তাঁহার গৌরব উচ্চপ্রশংসিত হউক, সমস্ত বার্তাবাহকগণ ও মনোনীতগণের উপর দায়িত্বভার অর্পণ করিয়াছেন, যেন তাহাদের হইতে উহা প্রকাশিত হইতে পারে যাহা ঈশ্বর তাহাদের অন্তরতম সত্তাসমূহের মধ্যে গচ্ছিত রাখিয়াছেন। যেইরূপ সহজেই লক্ষ্য করা যাইতে পারে, প্রতিটি বৃক্ষ একটি নির্দিষ্ট ফল প্রদান করে, এবং একটি ফলহীন বৃক্ষ কেবল অগ্নির উপযুক্ত হইয়া থাকে। এই সমস্ত ঐশী শিক্ষাদানকারী যাহা কিছু তাহারা বলিয়াছেন ও শিক্ষা দিয়াছেন, তাহার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের উন্নত মর্যাদাকে সংরক্ষণ করা। মঙ্গল তাহার-ই যে ঈশ্বরের এই দিবসে তাঁহার শিক্ষাসমূহের প্রতি দৃঢ়সংলগ্ন রহিয়াছে এবং তাঁহার সত্য ও মৌলিক আইন হইতে বিপথগামী হয় নাই। যে ফলগুলি মানব জীবন-বৃক্ষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত সেইগুলি হইতেছে বিশ্বাসভাজনতা ও ঈশ্বরভক্তি, সত্যবাদিতা ও অকপটতা; ঈশ্বরের একত্ব স্বীকার করিবার পর, তিনি প্রশংসিত ও গৌরবমন্ডিত হউন, সর্বাপেক্ষা বৃহৎ হইতেছে সেই অধিকারসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন যাহা পিতামাতার প্রাপ্য। এই শিক্ষা ঈশ্বরের সমস্ত গ্রন্থে উল্লেখ করা হইয়াছে এবং সর্বমহান লেখনী দ্বারা পুনঃনিশ্চিত করা হইয়াছে। করুণাময় পরম প্রভু কোরআনে যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহা বিবেচনা কর, তাহার উক্তিসমূহ প্রশংসিত হউক ঃ “তোমরা ঈশ্বরের উপাসনা কর, তাঁহার সহিত কোন সমকক্ষ বা সাদৃশ্য যুক্ত করিও না; এবং তোমাদের পিতামাতার প্রতি সদয়ভাব ও কোমলতা প্রদর্শন কর....”। লক্ষ্য কর, একক সত্য ঈশ্বরের স্বীকৃতির সহিত কিভাবে পিতামাতার প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ দয়ার্দ্রতাকে যুক্ত করা হইয়াছে! তাহারা-ই সুখী, যাহারা প্রকৃত বিজ্ঞতা ও ধীশক্তি সম্পন্ন, যাহারা দর্শন করে ও উপলব্ধি করে, যাহারা পাঠ করে ও হৃদয়ঙ্গম করে এবং যাহারা উহা পালন করে যাহা ঈশ্বর অতীতের গ্রন্থসমূহে এবং এই অতুলনীয় ও বিস্ময়কর ফলকলিপিতে অবতীর্ণ করিয়াছেন।

107. ফলকলিপিসমূহের একটিতে তিনি, তাঁহার উক্তিসমূহ মহিমান্বিত হউক, প্রকাশ করিয়াছেন: যাকাতের বিষয়ে আমরা অনুরূপভাবে আদেশ প্রদান করিয়াছি তোমরা তাহা অনুসরণ করিবে যাহা কোরআনে অবতীর্ণ হইয়াছে।

